Header Ads

Header ADS

কওমী সনদের সীকৃতি: বিপরীত পক্ষের তীর্যকতা | Qawmi News BD 24



কওমী সনদের সীকৃতি: বিপরীত পক্ষের তীর্যকতা
=================================
এক.
হাল আমলে সূর্য যথেষ্ট তেজ ছড়াচ্ছে। হাদীছের ভাষ্যমতে এই গরমকে জাহান্নামের নিশ্বাসের সাথে তুলনা করা হয়েছে। গরম নিশ্বাসে ঝরছে গরম গরম ফুলকি। বুঝা গেল সূর্য অগ্নিকুণ্ড। নিজের মধ্যে তার যথেষ্ট উত্তাপ বিদ্যমান। কিন্তু মানুষের নিশ্বাসও কিছুটা গরম। কওমী মাদরাসার সনদের সরকারী সীকৃতি বিষয়ে কিছু মানুষের অন্তরের উত্তাপ আর তেজস্বীতা বুঝি সূর্যকেও হার মানাবে। হাব ভাবে মনে হয়, কাছে পেলে সূর্যকে জ্বালিয়ে ছাই করে দিবে। বাপরে বাপ! তেজ কাকে বলে!
দুই.
আহমদ শফী। একজন বুড়া মানষ। তিনি বয়সিদ্ধ। দুনিয়াদারী কী আর বুঝবে? আমরা তরুণ। মডেল। আরো কত কি!!!
দাবীদারদের বেকগ্রাউন্ড একটু ক্যালকুলেন করা দরকার। তারা এই মহান ব্যক্তিত্বের নামটি উচ্চারণের ক্ষেত্রেও অসৌজন্যতা প্রকাশ করে যাচ্ছে। আহমদ শফী কে? কী তার পরিচয়? শুধু এই সামান্য প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে অসামান্য ও অনবদ্য একটি সংকলন হয়ে দাঁড়াবে। বাকীগুলো রেখেই দিলাম।
আহমদ শফী একাধারে শায়খুল ইসলাম, আমীরে হেফাজত, দারুল উলূম হাটহাজারীর মহাপরিচালক, বেফাকুল মাদারিসিল আরবিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সর্বোচ্ছ উলামা পরিষদের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ আরো অনেক কিছু। কাজেই বুঝা গেলো, আহমদ শফী কেবল একক ব্যক্তি নয়, তিনি একটি ব্রান্ড এবং একটি সূর্য। চানক্যের চানক্যবাজির ভোঁতা ভেল্কি সূর্যের সাথে দেখাতে না গিয়ে নিজের চরকায় তেল দিন। কারণ চামচিকার গালিতে সূর্যের আলো কখনো ম্রীয়মান হয় না।
তিন.
গায়ে জ্বালা, অন্তর জ্বালা, মনের জ্বালা, মশার জালা, বউয়ের জ্বালা, ইদুরের জ্বালা আরো কত কি! কওমী সনদের সীকৃতিতে কিছু মানুষের মনে যে জ্বালা শুরু হয়েছে মনে হয় শীগ্রই দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিবে।
চার.
সিংহ অনেক থাকলেও কিন্তু শিকারী সিংহ থাকে একটি। এক সিংহ শিকার করে বাকী সিংহরা খায়। শায়খুল ইসলাম শিকারী সিংহ। তিনিই কওমী সনদের সীকৃতি আদায় করেছেন। সবাইকে এক প্লাটফরমে আনতে সক্ষম হয়েছেন। কাজেই, জেনে রাখা দরকার যে, সিংহ সবসময় সিংহই থাকে।
পাঁচ.
আল্লামা আহমদ শফীকে কেউ কেউ দালাল, গাদ্দার ইত্যাদি আখ্যা দিচ্ছেন। তিনি নাকি শাপলার কাজের সাথে...
ভাই, আপনাকে বলছি! কওমী সনদের সীকৃতি কওমী ঘরানার উলামাদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফসল। সেই সফলতা যিনি অর্জন করেছেন তিনি আল্লামা শাহ আহমদ শফী। একাজের সফলতার জন্যে তাঁর নিন্দা তো দূরের কথা তাকে নোবেল কিংবা বাদশাহ ফয়সাল পুরষ্কারে ভূষিত করা উচিত।
ছয়.
যারা কথায় কথায় গাদ্দার, বেঈমান, ধোকাবাক বলতে অভ্যস্ত আসলে এসব উপাধির মূল হকদার তারা। নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য করুন।
ক. যে পাত্রে যা থাকে তাই টপকে পড়ে।
খ. কেউ যদি বলে, ছাগল ইংরেজি মাসের নাম বলতে পারে। তার দাবীটা প্রমাণের জন্যে ছাগলকে এনে জানুয়ারীর পর কোন মাস? বলে এক ঘা বেত মারুন। দেখবেন মে বলবে। নভেম্বরের পর ও আগে কোন মাস? সে বলবে মে! আজ কি বার? তুমি কি খাও? তোমার বয়স কত? প্রশ্ন যা হতে পারে। উত্তর কিন্তু মে! এটা আসলে তার আওয়ায। ইংরেজি নয়। যারা এসব বলে বেড়াচ্ছে তারাও ঠিক ছাগলের মতো।
সাত.
শাপলা ট্রাজেডি এক জিনিস কওমী সনদ অন্য জিনিস। দু'টির নিসবত এক অঙ্গনের দিকে বলে হ য ব র ল করার সুযোগ নেই। সময়ের পাদপীঠে আপন প্রশ্নের জবাবের সূর্য উদিত হবেই।
আট.
কওমী সনদের সীকৃতি মানে একটি শিক্ষা ব্যবস্থার রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন। কওমীরা এটাই চেয়েছেন। এটা তাদের অধিকার। নিজের অধিকার আদায় করলো বলে এসব বলে বেড়াচ্ছেন না বিদ্বেষে কেরোসিন মাথায় দিচ্ছেন?
নয়.
একজন বয়স্ক মানুষ এত সফল হয় কি করে! তাকে তো হটানো দরকার! মিছিল কর স্লোগান ধর, আগা নাই মাথা নাই, মাস্টার্সের মান চাই। আরে! কি যে বলছেন মশাই! একটু হুশ ফিরে আনুন। টিম টিম না ঘোড়ার ডিম! কোন বক্তার প্রতি অতিভক্তি দেখাতে গিয়ে বলে ফেলা আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন তাফসিরুল কুরআন! কারো হক প্রাপ্তিতে জ্বলতে নেই।
দশ.
এ দেশে ইসলামের প্রকৃত সূর্য যারা তুলে ধরেছেন তারা উলামায়ে দেওবন্দ। যাদের নিয়ে গর্ভ করা যায় যে, ওরা আমাদের পূর্বসূরি। সুতরাং এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকুন, যা আকাবীরদের মর্যাদায় আঘাত হানে। কেননা তাদের ত্যাগের সামান্য পরিমাণ সময়ের সামনে আপনার পুরো জীবনের মেহনত নিতান্তই স্বল্প।

No comments

ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয়ভাবে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে আলিয়াবাদ ইউনিয়ন উলামা ও আইম্মাহ্ পরিষদ প্রতিবাদ সমাবেশ

 ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয়ভাবে মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে আলিয়াবাদ ইউনিয়ন উলামা ও...

Powered by Blogger.